বিস্ফোরণ

যেদিন তোমার প্রশ্নগুলো সব কেন্দ্রীভূত হবে
যজ্ঞের কাঠির মত একের পরে এক সাজিয়ে দেবে
মন্ত্রপূত আজ্য দিয়ে জ্বালিয়ে দেবে আগুন
সেদিনের বিস্ফোরণে স্বপ্ন ভেঙে জাগিবে নির্গুণ।

শতাব্দীর শোষণভুক্ত দেহ থরথর করে কেঁপে উঠে
বন্ধনহারা অগ্নিময় রক্তধারা উন্মাদ বেগে ছুটে
যুগ যুগ ধরে পড়ে থাকা মৃত আগ্নেয়গিরির দ্বার
চূর্ণবিচুর্ণ করে ঝলকে ঝলকে দিগন্ত রাঙাবে বারবার।
জীবন শক্তির উন্মাদনায় ছিন্নবিচ্ছিন্ন নিরবচ্ছিন্ন চিন্তাধারা
কোষে কোষে সঞ্চারিত নতুন প্রাণের প্রবল সাড়া
বহুদশকের পুরাতন মুছে যাওয়া প্রকৃতির অঙ্গে অঙ্গে
ব্রহ্মাণ্ডের একক বিশুদ্ধ কম্পনে স্পন্দিত জীবন তরঙ্গে
মথিত হৃদয় পরিচয় পেয়ে সৃষ্টির পরম তেজস্ক্রিয়তা
দ্বিধাহীন নির্ভীক সত্ত্বা প্রকাশ করে জীবনের নিগূঢ় বার্তা।
মেঘমুক্ত অমাবস্যার রাতে কালপুরুষের সাথে সাথে লুব্ধকের মত
অনন্য সে অনন্তপথযাত্রীদের মাঝে রহস্যাবৃত জ্যোতির্ময় যত
অস্থিমজ্জা শীতল করা সমুদ্রগর্ভসম গভীর সে একারে
চরণপদ্মে মৃত্যু যেন মাথা নত করে বন্দনা করে।

অতীতহীন নিষ্পাপ সত্যের প্রখর তেজে
প্রকৃতির নিখুঁত পরিকল্পিত সুর উঠে বেজে
অভিনব সুন্দর মুখে জাগায় দয়ার কিরণ
অসহায় অসুন্দর ভর্ৎসনা করে জানায় নতুনের অপগুণ।
অনলে লহরী তুলে ভস্মীভূত করে কালের আবর্জনা যত
নিমেষে উড়িয়ে দিয়ে চিন্তালব্ধ সমাজের আধিপত্য
উন্মুক্ত প্রাণ বিচ্ছেদ করে জীবন-মৃত্যুর ঘূর্ণাবর্ত
জ্বালায় শত শত দীপ আঁধার করে মুক্ত।

Scroll to top