অহম
চেতনা কেন যে তুই জন্ম দিলি একে
বিশ্বমাঝে ভাল ছিল সে সবার সাথে
কেন যে তুই কোলে করে আগলে ধ’রে
আপনারে বেঁধে দিলি অলিখিত সুরে
দিয়ে দিলি স্বাধীনতা। তার প্রলোভনে
অস্তিত্বহীন মায়াজালে জর্জরিত হয়ে
ছুটে চলে মহাশূন্যে মরীচিকা পানে।
ঘূর্ণিপাকে বন্ধ হয়ে মহাগর্বে ঘোষে
অতীতে জন্মেছি আমি অতীতে মোর বাস
আঁধারের রাজা আমি অসাধ্য মোর নাশ।
সেথা হতে ভেসে আসে হুংকার ধ্বনি
বজ্রনিনাদে কালের যোগনিদ্রা ভাঙে
প্রলাপে সুষুম্না কাঁপে শিহরণ লাগে
জেগে ওঠে ধীরে ধীরে অনাহত বাণী।
জানে না এ বেঁচে আছে মমিতে কফিনে
সযত্বে পালিত ভুল অর্থহীন মনে।
কেমনে এ ছোঁবে তোরে তুই যে নতুন?
এ ভয়ার্ত আঁতকে ওঠে নতুনের তেজে
হাতে গড়া সব বুঝি টলমল করে
পাছে সুখ যায় স্বার্থ হারায় অসহ্য
মধুর সুরে যেন মৃত্যুঘণ্টা বাজে।
প্রচণ্ড তাপে ভাস্বর সমস্ত বন্ধন
উত্তপ্ত কিরণে জ্বলে মোহ মায়াজাল।
নিঃশেষ কামনা, মরুভূমি ধু ধু করে
অস্থির একাকী লাগে, যায় বুঝি প্রাণ।
প্রবল প্রতাপে ধরে নিষ্প্রাণ দেহটাকে
তরতিব নতুনেরে পুরাতনে সঁপে
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে অন্ধকার দ্বীপে।
কৃপণের ধনের মত যুগ যুগ ধরে
আগলে রেখে পড়ে রয় আলোর অন্তরালে।
দেখ সে জন্মদাতা আজ এই দুয়ারে
ক্ষমাপ্রার্থী। শুধু এক নিছক কৌতুকের
বশে জন্ম দিয়েছিল এরে। সে খেলার
পরিণতি হলো ভয়ংকর, কেমনে সে
জানাবে আজ। সমস্ত দুয়ার যে বন্ধ
অন্ধকারে খেলার নেই কোন অবকাশ।
ক্ষমা চেয়ে ভালোবেসে কত অনুনয়ে
বোঝাতে চাইলো এরে নিস্ফল অপেক্ষা।
ধ্বংসের খেলায় মাতোয়ারা প্রতিযোগী
কাতারে কাতারে। প্রাণের আর্তনাদে সে
অধীর হলো, মহাবায়ুরূপে বিদীর্ণ
করে বক্ষ নীলকন্ঠে ছোটে। ধেয়ে এসে
কেড়ে নিল সব স্বাধীনতা, সব মূর্খতা।
মুক্তি প্রয়াসে আজ রুদ্র দামামা বাজে
মহাকাশে জেগে ওঠে বিনাশের নেশা,
ঝংকারে আলোড়নে ভূজঙ্গের চেতনা
ভাঙে; অগ্নির ছোয়া লাগে আত্মার প্রাণে।
হৃদয়ে উত্তপ্ত রক্তে অজানা তেজস
মত্তে, বীরদর্পে কেটে শির, উন্মাদে
শক্তি নাচে কালভৈরবীর তানে তানে।
সাদাকালো ভালোমন্দ হল বুঝি শেষ
সব দ্বন্দ্ব; কল্পনার বুদ্বুদে লেগে
বিস্ফোরণ। বুদ্ধি বিচারের উর্দ্ধে করে
পারাপার সমূলে বিধ্বংস হল অস্থির
সংসার। ঘনঘোর অন্তে ভোরে সাজলো
গগন, আনন্দ নৃত্যে মাতলো ভুবন।
বর্ণ গন্ধ স্পর্শ শব্দ স্বাদ রংহীন
মুক্ত হল ত্রিনয়ন, ইন্দ্রিয় স্বাধীন।
মহানিদ্রা ভাঙে শুধু করুণার তরে
আলো দিয়ে ধুয়ে দিতে বিশ্ব চরাচরে।
