অনিদ্রা
রাত অনেক হল ঘড়ির শব্দটা সমস্ত
মনটা অধিকার করে আছে তাও মাঝে মাঝে
নিজের মধ্যে ডুবে যাই ভাবি শুয়ে শুয়ে অন্ধকারে
এই পেঁচা ডাকা রাতদুপুরে-কে দেবে উত্তর তাদের
সেই বন্ধুদের যাদের প্রাণপণ প্রয়াস চলে
আজীবন ধরে জীবনের প্রতি পদক্ষেপ যেন পড়ে
সত্যকে ঘিরে অনন্তকালের সে প্রশ্নের উত্তর পাবে বলে।
যারা আজও গোপনে কাঁদে অপরের দুঃখে
সততার প্রহারে যাদের ঘুম নেই চোখে
সত্য সন্ধানের নিষ্পেষণে যাদের সমস্ত রসদ
জীবনের প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে আছে
শীর্ণ দেহের প্রাণ–শুধু একফোঁটা আশার আলো।
তাদের কি কেউ কিছু বলবে তারা কি খুঁজে পাবে
নিজেকে পরিপূর্ণ মস্তিষ্কে এই সমাজের বুকে?
শেষ রাতে আকাশের সব মেঘ বৃষ্টি হয়ে
ঝরে পড়ে গেছে। ফিরিয়ে দিয়েছে
গাছের পাতা বাতাস থেকে সব ধুলোবালি
তাদের উৎসস্থলে পৃথিবীর মাটির বুকে।
ভেজা মাটির ঘাসের উপর ঝকঝকে ভোরের আলো
দৃষ্টি আজ সুদূরপ্রসারী–কে তাদের বলবে
তারা যেন দেখে এই নির্মল ভোরের মত পরিষ্কার
করে তাদের সাথে প্রকৃতির গভীর সম্পর্কগুলো,
অভিমানের অশ্রুজল যেন কুয়াশার মত ঝাপসা
করে দিতে না পারে শিশিরসিক্ত এই নিত্যকে।
যেন দর্শন করতে পারে নিজের সমস্ত চলনকে।
বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আত্মকেন্দ্রিকতা
সেই কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুর সাবলীল গতিময়তা
ধরা পড়ে যেন প্রস্ফুটিত ফুলের মত হয়ে,
যেন তারা খুঁজে পায় নিজেকে এই সমাজের বুকে
নিজের দু’টো পায়ে দাঁড়িয়ে।
কেমনে বোঝাবো এ অভিশপ্ত পিপাসার কথা
তাড়িয়ে তাড়িয়ে ঘুম নেয় কেড়ে কোণঠাসা করে
রাতের পর রাত সৃষ্টির অপরিসীম মাধুর্য কেন
মলিন হয়ে গেল পিপাসার্ত ক্ষুধার্ত ব্যথিত অস্তিত্বে আমার।
এত দিয়ে কেন শেষ কথা বলে না আমায়
কি বলি তাদের ভাবনা জাগে মনে আবার
আমি কে অন্যকে বোঝাবার?
প্রকৃতি সাজিয়ে দিয়েছে সবারে ফুল ফোটানোর
মন্ত্রে। বন্ধনের মাঝে খোলাখুলি পড়ে আছে
মুক্তির চাবিকাঠি; কিন্তু জেনেছি প্রিয় বন্ধুর কাছে
তাকে ছোঁবার মত সাহস নেই অনেকের।
জানি না কেন আবার মনে হয় বারবার
পশুরাজ যদি বড়োসড়ো কিছু করে ফেলে শিকার
চলে যায় পিছনে রেখে পরিপূর্ণ করে নিজেকে
আরও কতশত ক্ষুধার্ত প্রাণীর আহার
পূরণ করে দেয় শিকারীর অক্ষমতার।
